Notice: Constant TAB_TITLE already defined in /home/bangladeshdeltap/public_html/wp-content/plugins/js_composer/composer/lib/shortcodes/nested_tabs.php on line 4

Notice: wpdb::prepare was called incorrectly. The query argument of wpdb::prepare() must have a placeholder. Please see Debugging in WordPress for more information. (This message was added in version 3.9.) in /home/bangladeshdeltap/public_html/wp-includes/functions.php on line 3290

Notice: wpdb::prepare was called incorrectly. The query argument of wpdb::prepare() must have a placeholder. Please see Debugging in WordPress for more information. (This message was added in version 3.9.) in /home/bangladeshdeltap/public_html/wp-includes/functions.php on line 3290

Strict Standards: Declaration of Walker_Nav_Menu_Dropdown::start_lvl() should be compatible with Walker_Nav_Menu::start_lvl(&$output, $depth = 0, $args = Array) in /home/bangladeshdeltap/public_html/wp-content/themes/medicenter/nav-menu-dropdown-walker.php on line 28

Strict Standards: Declaration of Walker_Nav_Menu_Dropdown::end_lvl() should be compatible with Walker_Nav_Menu::end_lvl(&$output, $depth = 0, $args = Array) in /home/bangladeshdeltap/public_html/wp-content/themes/medicenter/nav-menu-dropdown-walker.php on line 28

Strict Standards: Declaration of Walker_Nav_Menu_Dropdown::start_el() should be compatible with Walker_Nav_Menu::start_el(&$output, $item, $depth = 0, $args = Array, $id = 0) in /home/bangladeshdeltap/public_html/wp-content/themes/medicenter/nav-menu-dropdown-walker.php on line 28

Strict Standards: Declaration of Walker_Nav_Menu_Dropdown::end_el() should be compatible with Walker_Nav_Menu::end_el(&$output, $item, $depth = 0, $args = Array) in /home/bangladeshdeltap/public_html/wp-content/themes/medicenter/nav-menu-dropdown-walker.php on line 28

Strict Standards: Declaration of Walker_Nav_Menu_Layout2::end_el() should be compatible with Walker_Nav_Menu::end_el(&$output, $item, $depth = 0, $args = Array) in /home/bangladeshdeltap/public_html/wp-content/themes/medicenter/nav-menu-dropdown-walker.php on line 36

Notice: wpdb::prepare was called incorrectly. The query argument of wpdb::prepare() must have a placeholder. Please see Debugging in WordPress for more information. (This message was added in version 3.9.) in /home/bangladeshdeltap/public_html/wp-includes/functions.php on line 3290
Bangladesh Delta Plan 2100 | বাংলাদেশের ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ কী এবং কেন জরুরি?

Notice: Undefined index: mc_header_sidebar in /home/bangladeshdeltap/public_html/wp-content/themes/medicenter/header.php on line 21

Notice: Undefined index: mc_header_type in /home/bangladeshdeltap/public_html/wp-content/themes/medicenter/header.php on line 57
logo
Notice: Undefined index: mc_header_sidebar_right in /home/bangladeshdeltap/public_html/wp-content/themes/medicenter/header.php on line 91

A project of the General Economics Division of the Bangladesh Planning Commission funded by the Government of the Netherlands


Notice: Undefined variable: css in /home/bangladeshdeltap/public_html/wp-content/plugins/js_composer/composer/shortcodes_templates/vc_column.php on line 14
  • বাংলাদেশের ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ কী এবং কেন জরুরি?

    বাংলাদেশের ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ কী এবং কেন জরুরি?

    ড. শামসুল আলম | ২০১৬-০৫-০৯ ইং

    বাংলাদেশ প্রধানত পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীবাহিত পলি মাটি দ্বারা গঠিত পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ। দ্রুত বর্ধনশীল এ ব-দ্বীপ অঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়নে নদীর গুরুত্ব অপরিসীম। নদীশাসিত এ দেশের ভূমিরূপ, ভৌগোলিক অবস্থান, পানিসম্পদ, ভূ-প্রতিবেশ প্রভৃতি অনন্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। নদী ও তার প্লাবন ভূমি এ দেশের ৮০ শতাংশ এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা ও অর্থনীতির নিয়ামক শক্তি। তবে বাংলাদেশের জন্য পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। কারণ একদিকে বর্ষাকালে প্রচুর পানি ও পলি নদীগুলো দিয়ে বঙ্গোপসাগরে ধাবিত হয় এবং অসংখ্য চরের সৃষ্টি করে, অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে প্রয়োজনীয় পানি পাওয়া যায় না। ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন— খরা, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন আমাদের নিত্যসঙ্গী। এর সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি তো রয়েছেই। তাছাড়া বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করায় অর্থাত্ পানিসম্পদ ব্যবস্থায় মানবসৃষ্ট পরিবর্তন সংঘটিত হওয়ায় প্রাকৃতিক পানি চক্র বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে পানির গুণগত মান ও প্রাপ্যতা কমে যাচ্ছে। লবণাক্ততা বেড়ে যাচ্ছে। মিঠা পানির স্বল্পতা ক্রমেই বাড়ছে। এছাড়া বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্তে আগামী দশকগুলোয় বৈশ্বিক উষ্ণতা ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ইত্যাদির জন্য বন্যা, খরা, সাইক্লোন এগুলোর ঝুঁকি বৃদ্ধির পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করাও আমাদের দেশের উন্নয়নের ধারা বজায় রাখার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এ বাস্তবতায় কৃষি, খাদ্যনিরাপত্তা, মত্স্য, শিল্প, বনায়ন, পানি ব্যবস্থাপনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, স্যানিটেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব খাত এ বিষয়কে বিবেচনায় রেখে একটি সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা এখন সময়ের দাবি। অতীতে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, নদীর অভ্যন্তরীণ ব্যবহার, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা পাওয়া, পলি ব্যবস্থাপনা ও ভূমি উদ্ধার, কৃষিতে পানির চাহিদা নিরূপণ, সুপেয় পানির সরবরাহ ইত্যাদি মিলিয়ে সমন্বিত কোনো জাতীয় পরিকল্পনা গৃহীত হয়নি। অবশ্য এর কোনো কোনো বিষয়ে প্রধানত প্রকৌশলীদের পরামর্শ ও ছক অনুসরণে খাতভিত্তিক বিচ্ছিন্ন কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল।

    সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় বন্যা ও জলবায়ু পরিবর্তন-সম্পর্কিত বিপর্যয় থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত, পানি ব্যবহারে অধিকতর দক্ষতা আনয়ন, সমন্বিত ও টেকসই নদী এবং নদী মোহনা ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা, জলাভূমি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং তাদের যথোপযুক্ত ব্যবহার নিশ্চিত, অন্তঃ ও আন্তঃদেশীয় পানিসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য কার্যকর প্রতিষ্ঠান ও ন্যায়সঙ্গত সুশাসন গড়ে তোলা এবং ভূমি ও পানিসম্পদের সর্বোত্তম সমন্বিত ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়গুলো বর্তমান আর্থসামাজিক বাস্তবতায় সর্বাধিক গুরুত্বের দাবিদার।

    বাংলাদেশে ইতোপূর্বে খাতভিত্তিক স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: ইন্টারন্যাশনাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি কর্তৃক ‘মাস্টার প্ল্যান ১৯৬৪’, ‘ন্যাশনাল ওয়াটার প্ল্যান ১৯৮৬’, ‘ন্যাশনাল ওয়াটার প্ল্যান ১৯৯১’, ‘ফ্লাড অ্যাকশন প্ল্যান ১৯৯২’, ‘ন্যাশনাল ওয়াটার পলিসি ১৯৯৯’, ‘ন্যাশনাল ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান ২০০৪’, ‘হাওড় এলাকার মাস্টার প্ল্যান ২০১০’, ‘বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি উন্নয়নের মাস্টার প্ল্যান ২০১৩’ এবং সাম্প্রতিক সময়ে প্রণীত ‘বাংলাদেশের বৃহত্ নগরী, শহর ও ছোট শহরগুলোর মাস্টার প্ল্যান’, ‘বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তন কৌশল ও অ্যাকশন প্ল্যান’, ‘পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্ল্যান ২০১১-২৫’ ইত্যাদি। এসব পরিকল্পনার অধিকাংশই একক খাতভিত্তিক হওয়ার কারণে এর সুফল সংশ্লিষ্ট সেক্টরগুলো পেয়ে থাকলেও অন্য খাতে এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া কিংবা চাহিদা বিবেচনায় নেয়া হয়নি। এ ধরনের পরিকল্পনার বাস্তবায়ন অন্য খাতের জন্য কোনো বিরূপ ফলাফল বয়ে এনেছে কিনা, তাও সেভাবে নিরূপণ করা হয়নি। পরিকল্পনার সঙ্গে অর্থায়নের কার্যকর যোগসূত্র না থাকায় খাতভিত্তিক পরিকল্পনার কিছু আবার প্রয়োজনীয় অর্থায়নের অভাবে ভুগেছে। একক খাতভিত্তিক হওয়ার কারণে এ পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের সময় সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাতের অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা আমলে নেয়া হয়নি এবং এর ফলে সমন্বয় আশানুরূপ হয়নি। ফলে এসব পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন হয়নি। তাই কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যায়নি।

    বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুতবর্ধনশীল। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়া, স্থিতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন ও প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পানি ব্যবস্থাপনা, খাদ্যনিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা করার চ্যালেঞ্জ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর এজন্যই কৃষি, খাদ্যনিরাপত্তা, মত্স্য, শিল্প, বনায়ন, পানি ব্যবস্থাপনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, স্যানিটেশনসহ সব খাত বিবেচনায় রেখে সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ একান্ত জরুরি। বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ এ প্রয়োজনীয়তাকেই উপলব্ধি করেছে এবং ৫০-১০০ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য সরকার বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ পরিকল্পনায় অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে দেশের উন্নয়ন প্রাধিকারগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব হ্রাস ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ পরিকল্পনা তৈরি করা হবে। যেকোনো দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা, সুশাসন ও সহায়ক কার্যকরী প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো তৈরি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০তে এ বিষয়গুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের প্রতিনিধিত্ব ও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা নেয়া হয়েছে।

    এর আগে খাত-উপখাতভিত্তিক গৃহীত বিভিন্ন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বা উদ্যোগে মন্ত্রণালয়ের পর্যায়ে অনুমোদিত হলেও পরিকল্পনা কমিশনের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) কর্তৃক সার্বিক আলোচনা ও অনুমোদিত হয়নি। বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ প্রণীত হওয়ার পর তা পরিকল্পনা দলিল প্রণয়নের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সংস্থা এনইসি কর্তৃক অনুমোদিত হবে। এর ফলে প্রথমবারের পানিসম্পদকেন্দ্রিক এ মহাপরিকল্পনা সর্বোচ্চ পর্যায়, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত হওয়ার ফলে তা জাতীয় মহাপরিকল্পনা হিসেবে গৃহীত হবে এবং জাতীয় প্রতিশ্রুতি হিসেবে বাস্তবায়ন হবে।

    প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব হ্রাস করে জলবায়ু পরিবর্তন বিবেচনায় রেখে কৃষি, পানিসম্পদ, ভূমি, শিল্প, বনায়ন, মত্স্যসম্পদ প্রভৃতিকে গুরুত্ব প্রদানপূর্বক সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সুষ্ঠু পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, খাদ্যনিরাপত্তা ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য দীর্ঘমেয়াদি (৫০ থেকে ১০০ বছর) একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়নের কর্মকৌশল নির্ধারণ করার প্রয়োজনীয়তা থেকেই বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল।

    মহাপরিকল্পনাটি সমন্বিত ও সর্বজনীন করার লক্ষ্যে ১. সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সরকারি ও বেসরকারি খাত থেকে অবদান নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে ডেল্টা ভিশন ও লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কার্যাবলি শনাক্তকরণ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে ২. ব-দ্বীপ পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট ১৯টি সহায়ক গবেষণাপত্র তৈরি করা হয়েছে, যার আলোকে একটি জ্ঞানভাণ্ডার গড়ে তোলা হয়েছে ৩. পৃথকভাবে পানিসম্পদ খাতের গত ৬০ বছরে গৃহীত পদক্ষেপগুলোর সফলতা, ব্যর্থতা বিস্তারিত পর্যালোচনা করে অর্জিত জ্ঞান থেকে ভবিষ্যত্ করণীয় ঠিক করা হচ্ছে ৪. জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত, অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও নগরায়ণ বিবেচনা করে ভবিষ্যতের বিভিন্ন রূপকল্প প্রক্ষেপণ করা হয়েছে ৫. দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সম্ভাব্য পরিবর্তিত পটভূমিগুলো কী হতে পারে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে তা প্রণয়ন করা হচ্ছে ৬. সংশ্লিষ্ট ভিত্তিস্তর জ্ঞান ও ভবিষ্যতের বিভিন্ন রূপকল্প বিবেচনায় শুষ্ক মৌসুমে পানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, বর্ষা মৌসুমে বন্যা ব্যবস্থাপনা, পানি ও ভূমির লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণসহ পানিসম্পদ ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতের চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে ৭. চিহ্নিত চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় দেশীয় বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে কৌশল নির্ধারণের কাজ চলছে ৮. দীর্ঘমেয়াদি এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সমন্বিত ব্যবস্থাপনার জন্য Delta Commission and Delta Fund বিষয়ে প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে, যা দেশে কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এই প্রথম।

    এ মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের প্রতিটি ধাপে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষক, একাডেমিক, পেশাজীবী ও সুশীল সমাজের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। এ পর্যন্ত জাতীয়, আঞ্চলিক ও তৃণমূল পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ের অংশীজনের অংশগ্রহণে মোট ২০টি কর্মশালা, আলোচনা সভা ও মতবিনিময় সভা (মোট উপস্থিতি ১২০০ জন) অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে CEGIS, WARPO, BUET ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিশেষজ্ঞদের এ প্রকল্প প্রণয়নে কাজে লাগানো হচ্ছে। কাজেই সবার মতামতের ভিত্তিতে এ পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে।

    বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ সুষ্ঠুভাবে প্রণয়নের সুবিধার্থে বিভিন্ন ফোরাম ও কমিটি কাজ করে চলেছে। এ মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য পরিকল্পনামন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি National Advisory Committee, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে একটি National Steering Committee, পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্যের নেতৃত্বে Project Implementation Committee এবং সর্বোপরি দেশের প্রথিতযশা বিজ্ঞানী ও গবেষক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরীর নেতৃত্বে ২৫ জনের একটি দেশী Panel of Experts রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ সরকার ও নেদারল্যান্ডস সরকারের প্রতিনিধির সমন্বয়ে Dutch-Bangla Inter Governmental Committee রয়েছে। ব-দ্বীপ পরিকল্পনার প্রতিটি বিষয় এসব কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হয়। তাদের বিশেষজ্ঞ মতামত, পরামর্শ ও দিকনির্দেশনার ওপর ভিত্তি করে এ পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। সংশ্লিষ্ট সবার অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা, তথ্য ও উপাত্ত আদান-প্রদান, আন্তঃ অংশীজন সমন্বয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থায় ২৫ জন Focal Point নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এ মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে উল্লখযোগ্য সংখ্যায় দেশী পরামর্শকরা অংশগ্রহণ করছেন। মহাপরিকল্পনা দলিল প্রণয়নের কাজটিও প্রথিতযশা পরামর্শক দলের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হচ্ছে, যার শতভাগই দেশী পরামর্শক, যারা এ দেশের পরিবর্তনশীল ব-দ্বীপ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়াদিতে অভিজ্ঞ। নেদারল্যান্ডস বিশ্বে ব-দ্বীপ ব্যবস্থাপনায় সর্বজনস্বীকৃত একটি দেশ। তাদের কারিগরি সহায়তায় পরিবর্তনশীল বাংলাদেশে ব-দ্বীপ প্রকৃতি বিশ্লেষণ করে সম্পূর্ণ দেশীয় পরিবেশ, প্রতিবেশ বিবেচনায় এ পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে।

    এর আগে গৃহীত বিভিন্ন খাতভিত্তিক পরিকল্পনার আওতায় বাস্তবায়িত প্রকল্পের মাধ্যমে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, বন্যা মোকাবেলা, ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষার জন্য দেশে অসংখ্য স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। এ স্থাপনাগুলো কার্যকর রাখা ও সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য নিয়মিত মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ অপরিহার্য ছিল। পরিকল্পনায় অনেক ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান না থাকায় এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে অপ্রতুল অর্থ বরাদ্দ থাকার কারণে প্রয়োজনীয় মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ করা সম্ভব হয়নি। স্থাপনাগুলোর সর্বোত্তম কার্যকরী ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অপরিহার্য মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে। এ মহাপরিকল্পনায় এর আগে নির্মিত ও নির্মিতব্য স্থাপনাগুলো সময়ে সময়ে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান রাখার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এতে নতুন স্থাপনা নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের তুলনায় অনেক কম খরচে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের মাধ্যমে স্থাপনাগুলো থেকে দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর প্রতিরক্ষা ও সুফল পাওয়া সম্ভব হবে।

    বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ হবে সম্পূর্ণরূপে বাংলাদেশের নিজস্ব মহাপরিকল্পনা; যা সমন্বিত, সর্বজনীন ও বাস্তবতার নিরিখে সময়ের সঙ্গে পরিবর্তনশীল। দেশের স্থিতিশীল আর্থসামাজিক উন্নয়নে এটি হবে ভবিষ্যতের কার্যকরী দীর্ঘমেয়াদি পথনকশা।

    http://www.bonikbarta.com/2016-05-09/news/details/74851.html

    Leave a reply →

Notice: Undefined variable: css in /home/bangladeshdeltap/public_html/wp-content/plugins/js_composer/composer/shortcodes_templates/vc_column.php on line 14