A project of the General Economics Division of the Bangladesh Planning Commission funded by the Government of the Netherlands

  • পানি ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত একটি দেশজ মহাপরিকল্পনা

    পানি ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত একটি দেশজ মহাপরিকল্পনা

    বাংলাদেশব-দ্বীপপরিকল্পনা

    পানি ব্যবস্থাপনায় সমন্বিতএকটি দেশজ মহাপরিকল্পনা

    শামসুলআলম | ২০১৬-০৩-২৯ইং

     

    আন্তর্জাতিক নদী কৃত্য দিবস-২০১৬ উপলক্ষে ১৩ মার্চ এক সংবাদ সম্মেলনে ‘বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন’ (বাপা) ও ‘জাতীয় নদী রক্ষা আন্দোলন’ সংস্থা দুটি থেকে বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ বিষয়ে কিছু বক্তব্য দেয়া হয়েছে, যা ১৪ মার্চ দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় ‘ব-দ্বীপ পরিকল্পনা নদীর জন্য অশনিসংকেত’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয় যে, ‘দেশের বিশেষজ্ঞদের যুক্ত না করে শুধু বিদেশী বিশেষজ্ঞদের নিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে তা দেশের নদীগুলোর জন্য নতুন অশনিসংকেত হিসেবে দেখা দেবে। ষাটের দশকে সবুজ বিপ্লবের নামে ভুল পরিকল্পনায় দেশে উপকূলীয় বেড়িবাঁধ তৈরি করা হয়েছিল। ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পর দেশের বেশির ভাগ উপকূলীয় নদী আজ মৃত্যুর প্রহর গুনছে। এখন আবারো বিদেশী বিশেষজ্ঞনির্ভর ব-দ্বীপ পরিকল্পনা (ডেল্টা প্ল্যান) নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। নেদারল্যান্ডসের ব-দ্বীপের আদলে করা ওই পরিকল্পনা বাংলাদেশের জন্য কখনই বাস্তবসম্মত হবে না। বরং দেশের যে নদীগুলো কোনোমতে টিকে আছে, তা চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাবে।’

    সংবাদ পর্যালোচনায় একটি বিষয় সুস্পষ্ট যে, বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ বিষয়ে সংস্থা দুটির তথ্যের ঘাটতি রয়েছে, যে কারণে বক্তব্যটি অনুমাননির্ভর বলে প্রতীয়মান হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে জনমানসে ভ্রান্তি অপনোদনে বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ সংক্রান্ত বিষয়ে আলোকপাত করা হলো—

    বাংলাদেশ দ্রুত বর্ধনশীল ব-দ্বীপ প্রধান (Deltaic) দেশ, যা প্রধানত পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীবাহিত পলি মাটি দ্বারা গঠিত পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ। এ দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে নদীর গুরুত্ব অপরিসীম। নদীশাসিত এ দেশের ভূমিরূপ, ভৌগোলিক অবস্থান, পানিসম্পদ, ভূপ্রতিবেশ প্রভৃতি অনন্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। এ দেশে ৮০ শতাংশ এলাকা এ নদীগুলোর প্লাবন ভূমিতে অবস্থিত। দেশের মানুষের জীবন-জীবিকা ও অর্থনীতির চালিকা শক্তি এ নদী ও তার প্লাবন ভূমিগুলো। বাংলাদেশের জন্য পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। কারণ একদিকে বর্ষাকালে প্রচুর পানি ও পলি নদীগুলো দিয়ে বঙ্গোপসাগরে ধাবিত হয় এবং অসংখ্য চরের সৃষ্টি করে। অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যায় না। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করায় অর্থাত্ পানিসম্পদ ব্যবস্থায় মানবসৃষ্ট পরিবর্তন সংঘটিত হওয়ায় প্রাকৃতিক পানি চক্র বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে পানির গুণগত মান ও প্রাপ্যতা কমে যাচ্ছে; লবণাক্ততা বেড়ে যাচ্ছে। মিঠা পানির স্বল্পতা ক্রমেই বাড়ছে। এছাড়া ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন— খরা, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন আমাদের নিত্যসঙ্গী। এর সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি তো রয়েছেই। আগামী দশকগুলোয় বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্তে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ইত্যাদির জন্য বন্যা, খরা, সাইক্লোন এগুলোর ঝুঁকি বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করাও আমাদের দেশের উন্নয়নের ধারা বজায় রাখার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সে কারণে বাংলাদেশের জন্য সার্বিকভাবে একটি দীর্ঘমেয়াদি দৃশ্যকল্প প্রণয়ন ও বিশ্লেষণে তৈরি করা হয়েছে ব-দ্বীপ রূপকল্প (Delta Vision)। এ রূপকল্প অর্জনে কৃষি, মত্স্য, শিল্প, বনায়ন, পানি ব্যবস্থাপনা, স্যানিটেশন— সব খাত বিবেচনায় রেখে একটি সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। বাস্তবধর্মী এ পরিকল্পনা ৫০ থেকে ১০০ বছর মেয়াদে জলবায়ু পরিবর্তন বিবেচনায় পানিসম্পদ তথা পানি ব্যবস্থাপনাকে মূল উপজীব্য হিসেবে গ্রহণ করেছে।

    প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব হ্রাস ও জলবায়ু পরিবর্তন বিবেচনায় রেখে অর্থনৈতিক উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে সুসংহত ও টেকসইকরণের লক্ষ্যে ব-দ্বীপ ব্যবস্থাপনা, সমন্বিত পানিসম্পদ ও নদী ব্যবস্থাপনা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু অভিযোজন বিষয়ে বাংলাদেশে একটি সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি (৫০ থেকে ১০০ বছর) মহাপরিকল্পনার কাঠামো প্রণয়ন এবং তা মেয়াদান্তরে বাস্তবায়নের কর্মকৌশল নির্ধারণ করার লক্ষ্যে নেদারল্যান্ডস সরকারের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় সরকারের নির্দেশে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ কর্তৃক ‘বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ প্রণয়ন’ শীর্ষক কারিগরি সহায়তা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এ মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কার্যক্রম ২০১৪ সালের মার্চ থেকে শুরু হয়েছে এবং ডিসেম্বর ২০১৬তে তা সম্পন্ন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

    সামগ্রিক উদ্দেশ্য: ব-দ্বীপ পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো, প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব হ্রাস করে জলবায়ু পরিবর্তন বিবেচনায় রেখে কৃষি, পানিসম্পদ, ভূমি, শিল্প, বনায়ন, মত্স্যসম্পদ প্রভৃতিকে গুরুত্ব প্রদানপূর্বক সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সুষ্ঠু পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, খাদ্যনিরাপত্তা ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য একটি সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি (৫০ থেকে ১০০ বছর) মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়নের কর্মকৌশল নির্ধারণ করা।

    ব-দ্বীপ পরিকল্পনার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যগুলো হচ্ছে—

    ১. বন্যা ও জলবায়ু পরিবর্তন-সম্পর্কিত বিপর্যয় থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; ২. পানি ব্যবহারে অধিকতর দক্ষতা ও পানির পর্যাপ্ততা বৃদ্ধি করা; ৩. সমন্বিত ও টেকসই নদী ও নদী মোহনা ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা; ৪. জলাভূমি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং তাদের যথোপযুক্ত ব্যবহার নিশ্চিত করা; ৫. অন্তঃ ও আন্তঃদেশীয় পানিসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য কার্যকর প্রতিষ্ঠান ও ন্যায়সঙ্গত সুশাসন গড়ে  তোলা এবং

    ৬.  ভূমি ও পানিসম্পদের সর্বোত্তম সমন্বিত ব্যবহার নিশ্চিত করা; এ উদ্যেগের আওতায় এরই মধ্যে সম্পাদিত উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমগুলো হচ্ছে—

    ১. সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সরকারি ও বেসরকারি খাত থেকে অবদান নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে ডেল্টা ভিশন ও লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কার্যাবলি শনাক্তকরণ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে; ২. ব-দ্বীপ পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট ১৯টি সহায়ক গবেষণাপত্র তৈরি করা হয়েছে, যার আলোকে একটি জ্ঞানভাণ্ডার গড়ে তোলা হয়েছে; ৩. পৃথকভাবে পানিসম্পদ খাতে গত ৬০ বছরে গৃহীত পদক্ষেপগুলোর বিস্তারিত পর্যালোচনা করে অর্জিত জ্ঞান থেকে ভবিষ্যত্ করণীয় ঠিক করা হচ্ছে; ৪. জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত, অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও নগরায়ণ বিবেচনা করে ভবিষ্যতের বিভিন্ন রূপকল্প প্রক্ষেপণ করা হয়েছে; ৫. দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সম্ভাব্য পরিবর্তিত পটভূমিগুলো কী হতে পারে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে তা প্রণয়ন করা হচ্ছে; ৬. সংশ্লিষ্ট ভিত্তিস্তর জ্ঞান ও ভবিষ্যতের বিভিন্ন রূপকল্প বিবেচনায় শুষ্ক মৌসুমে পানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, বর্ষা মৌসুমে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি ও ভূমির লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণসহ পানিসম্পদ ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতের চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে; ৭. চিহ্নিত চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় কৌশল নির্ধারণের কাজ চলছে; ৮. দীর্ঘমেয়াদি এ প্রকল্প বাস্তবায়নে Delta Commission and Delta Fund বিষয়ে প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে; ৯. ব-দ্বীপ পরিকল্পনার আওতায় বাস্তব প্রয়োজন অনুযায়ী বিনিয়োগ প্রকল্প তৈরির কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে পারস্পরিক সহযোগিতার লক্ষ্যে গত বছরের ১৬ জুন বাংলাদেশ সরকার, নেদারল্যান্ডস সরকার ও বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ), ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) ও ২০৩০ পানিসম্পদ গ্রুপের (ডব্লিউআরজি) মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এ স্মারকের আওতায় বাংলাদেশ সরকার, নেদারল্যান্ডস সরকার ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপ কর্তৃক বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ প্রণয়ন এবং তার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে অধিকতর শক্তিশালীকরণের লক্ষ্যে একটি সহযোগিতামূলক কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার প্রয়াস নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ প্রণয়নে এ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ সরকার, নেদারল্যান্ডস সরকার একযোগে নিবিড়ভাবে কাজ করে চলেছে। কর্মপরিকল্পনা মোতাবেক আগামী সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ প্রণয়ন সম্পন্ন হবে। বাস্তবায়নযোগ্য দীর্ঘমেয়াদি ব-দ্বীপ পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে। খসড়া প্রণয়নের কাজ জুলাইয়ের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা যায়।

    এ মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত পরামর্শকের মধ্যে দেশী পরামর্শকের সংখ্যাই বেশি। মহাপরিকল্পনা দলিল প্রণয়নের কাজটি দেশের প্রথিতযশা পরামর্শক দলের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হচ্ছে, যার শতভাগই দেশী পরামর্শক, যারা এ দেশের পরিবর্তনশীল ব-দ্বীপ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়াদিতে অভিজ্ঞ। এ মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের পটভূমিতে এ দেশের ব-দ্বীপের ওপর ১৯টি সমীক্ষা সম্পন্ন করা হয়, যার ভিত্তিতে পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ এগিয়ে চলছে। নেদারল্যান্ডস বিশ্বে ব-দ্বীপ ব্যবস্থাপনায় সর্বজনস্বীকৃত একটি দেশ। তাদের কারিগরি সহায়তায় পরিবর্তনশীল বাংলাদেশে ব-দ্বীপ প্রকৃতি বিশ্লেষণ করে সম্পূর্ণ দেশীয় পরিবেশ, প্রতিবেশ বিবেচনায় এ পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে।

    এ মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের প্রতিটি ধাপে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষক, একাডেমিক, পেশাজীবী ও সুশীল সমাজের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। যেমন— CEGIS, WARPO, BUET ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিশেষজ্ঞদের এ প্রকল্প প্রণয়নে কাজে লাগানো হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ঢাকা ও আঞ্চলিক পর্যায়ে কর্মশালা, আলোচনা সভা ও মতবিনিময় সভা করা হয়েছে। তাদের মতামতের ভিত্তিতে এ পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এ মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি National Advisory Committee, মুখ্য সচিব মহোদয়ের নেতৃত্বে একটি National Steering Committee এবং সর্বোপরি দেশের প্রথিতযশা বিজ্ঞানী ও গবেষক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরীর নেতৃত্বে ২৫ জনের একটি দেশীয় Panel of Experts রয়েছে। ব-দ্বীপ পরিকল্পনার প্রতিটি বিষয় উল্লিখিত তিনটি কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হয়। সর্বোপরি এ মহাপরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো, এ দেশের নদী ও পানিসম্পদের সর্বোচ্চ ও যথোপযুক্ত ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যেক মাথায় রেখে সমন্বিত ও টেকসই নদী ও নদীর মোহনা গড়ে তোলা। এ মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন বাংলাদেশ সরকারের ‘রূপকল্প ২০৪০’ অর্জনের সঙ্গে সঙ্গে উন্নত দেশের পর্যায়ে পৌঁছানোর লক্ষ্য অর্জনেও মুখ্য ভূমিকা রাখবে।

    বর্ণিত বিশ্লেষণে প্রতীয়মান হয় যে, বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা সম্পূর্ণরূপে বাংলাদেশের নিজস্ব মহাপরিকল্পনা। সম্পূর্ণ দেশীয় বিশেষজ্ঞ কর্তৃক এর খসড়া প্রণীত হচ্ছে। পানি ব্যবস্থাপনায় ডাচদের অভিজ্ঞতা অদ্বিতীয়। তাদের অভিজ্ঞতা ও কারিগরি সহযোগিতা আমাদের নিজস্ব প্রেক্ষাপটে উপযোগী প্রমাণিত হলেই গ্রহণ করা হবে। একটি বাস্তবায়নযোগ্য দীর্ঘমেয়াদি ব-দ্বীপ পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে, যা উন্নত একটি দেশে পৌঁছানোর লক্ষ্য অর্জনেও মুখ্য ভূমিকা রাখবে।

     

    লেখক: অর্থনীতিবিদ

    বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (জ্যেষ্ঠ সচিব)

    The Banik Barta

    Date: 29/03/2016

     

    Leave a reply →